ভালবাসার আসক্তি

ভালবাসার আসক্তি

 ধরো তুমি একজনকে ভালোবাসো। তুমি একাই তাকে ভোগ করতে চাও; তার প্রতিটি গতিবিধি তোমার মনের ঈর্ষার উদ্রেক করে। তুমি চাও- সে মানুষটি তোমার কাছে বসুক, তোমার পাশে দাড়াক, তোমার ঈঙ্গিতে খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা সব করুক। তুমি আসলে সেই মানুষের কৃতদাস হয়ে বাচতে চাও, এবং তাকেও তোমার কৃতদাস হিসেবে রাখতে চাও। এটা আসলে ভালোবাসা না এটা একটা দাসসুলভ অনুরাগের বিকার। ভালোবাসার মতো দেখা যাচ্ছে, কিন্তু ভালোবাসা না। এটা ভালোবাসা হতে পারে না, কারণ এটা যন্ত্রণাদায়ক। যদি সেই মানুষটি তোমার ইচ্ছানুযায়ী কাজ না করে, তবে তোমার কষ্ট হবে। মুলত ভালোবাসায় দুঃখের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। ভালোবাসায় কেবল আনন্দেরই প্রতিক্রিয়া থাকে দঃখের জায়গা সেখানে নেই। ভালোবাসে যদি আনন্দ না হয় তবে সেটা ভালোবাসা না৷ আর যখন তুমি এরকম ভালোবাসার সন্ধান পেয়ে যাবা, তখন দেখবা তুমি ভালোবাসার প্রতি আসক্ত নও। অনাসক্ত ভালোবাসাই সুখের পাথেয় এবং ভালোবাসায় আসক্তি দুঃখের । 

মহাভারতে শ্রী কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিল, আমি একমুহূর্তও কর্ম থেকে বিরত নই। আমি যদি একমুহূর্তের জন্য কর্ম থেকে বিরত হই, তবে জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই কর্ম করে আমার লাভ নাই। তবুও আমি কর্ম করি, কারণ আমি জগৎকে ভালোবাসি। তিনি ভালোবাসেন বলেই তিনি অনাসক্ত। 

ইশ্বর বা খোদা যদি আমাদের দাস বানিয়ে রাখতে চাইতেন,তবে তিনি আমাদের বিবেচনার ক্ষমতা রুদ্ধ করে দিতেন। আজ্ঞাবহ দাস বানিয়ে রাখতেন। তিনি আমাদের ভালোবাসেন বলেই আমাদের জ্ঞানের পথ খোলা রেখেছেন। তিনি আমাদের প্রতি কখনোই আসক্ত না এবং এটাই ভালোবাসা। 


No comments

Powered by Blogger.